শিরোনাম:
●   সংসদ সদস্যদের শুল্কমুক্ত গাড়ি ও সরকারি প্লট না নেওয়ার সিদ্ধান্ত ইতিবাচক উদাহরণ ●   প্রজ্ঞা ও দূরদর্শিতার সাথে গণতান্ত্রিক উত্তরণের সুযোগ কাজে লাগাতে হবে ●   রাঙামাটিতে একুশে ফেব্রুয়ারি উপলক্ষ্যে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির শ্রদ্ধাঞ্জলী ●   তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকারকে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির শুভেচ্ছা ●   বিএনপি চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সহ নতুন গঠিত সরকারের সকল সংসদ সদস্যদের পার্বত্য চট্টগ্রাম বড়ুয়া সংগঠনের অভিনন্দন ●   জুঁই চাকমা’র নির্বাচন পরিচালনা কমিটি সভা অনুষ্ঠিত ●   রাঙমাটি-২৯৯ আসনে নির্বাচনে পাশে থাকা সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানালেন জুঁই চাকমা ●   ভোটকেন্দ্র দখলের আশঙ্কা জুঁই চাকমার ●   ঢাকা-১২ আসনে কোদাল মার্কায় গণজোয়ার কোদাল মার্কায় ভোট দিয়ে ভোটের মর্যাদা রক্ষা করুন : জননেতা সাইফুল হক ●   কারো কোন কথায় প্রভাবিত না হয়ে নিজেদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার জন্য ভোটারদের প্রতি জুঁই চাকমার উদাত্ত আহ্বান
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৪ ফাল্গুন ১৪৩২

জনগণতন্ত্র-jonogonotontro/The Peoples Democracy
শুক্রবার ● ১৭ নভেম্বর ২০২৩
প্রথম পাতা » উপ সম্পাদকীয় » মজলুম জননেতা মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর আজ ৪৭ তম মৃত্যুবার্ষিকী
প্রথম পাতা » উপ সম্পাদকীয় » মজলুম জননেতা মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর আজ ৪৭ তম মৃত্যুবার্ষিকী
৭৩৪ বার পঠিত
শুক্রবার ● ১৭ নভেম্বর ২০২৩
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

মজলুম জননেতা মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর আজ ৪৭ তম মৃত্যুবার্ষিকী

--- অধ্যক্ষ মুকতাদের আজাদ খান :: মজুর কৃষক শ্রমিকের আপনজন মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী আমৃত্যু নির্যাতিত নিপীড়িত বঞ্চিত সাধারণ মানুষের পাশে ছিলেন। তাদের সুখে-দুখে কাঁধে কাঁধ মিলিয়েছেন আজীবন। এ জন্যই তিনি মজলুম, এ জন্যই তিনি গণমানুষের নেতা।
অসময়ে পিতৃমাতৃহীন আবদুল হামিদ খানকে তাঁর চাচা ইবরাহীম খান শৈশবে আশ্রয় দেন। এ চাচাই তাঁকে মাদরাসায় পড়ার সুযোগ করে দেন। মাদরাসায় পড়াকালে তিনি ইরাক থেকে আগত এক পীরের স্নেহভাজন হওয়ায় ওই পীরই তাঁকে পড়তে দেওবন্দ মাদরাসায় পাঠান। দেওবন্দে পড়ালেখার সময়ে তিনি দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হন।
মাদরাসায় পড়ালেখা শেষে তিনি কাগমারিতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা পেশায় যোগ দেন। ঐ সময়ে খুব কাছ থেকে জমিদার নীলকরদের অত্যাচার নির্যাতন নিপীড়ন দেখে তিনি তাদের বিরুদ্ধে সংগ্রামে অবতীর্ণ হন। অন্যায়ের প্রতিবাদে প্রতিরোধ গড়ে তোলায় জমিদারদের রোষানালে পড়ে তাঁকে কাগমারি ছাড়তে হয়।
২২ বছর বয়সে কংগ্রেস নেতা দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশের সংস্পর্শে এসে রাজনীতিতে যুক্ত হন। অসহযোগ আন্দোলনে যুক্ত হওয়ার অপরাধে তাঁকে কারারুদ্ধ হতে হয়। ১৭ মাস পর মুক্ত হন।
১৯২৪ সালে সিরাজগঞ্জে এক জনসভায় মজুর কৃষক শ্রমিকের ওপর জমিদার নীলকরদের অত্যাচার নির্যাতন নিপীড়নের চিত্র জনসম্মুখে তুলে ধরার অপরাধে জন্মভূমি ছাড়তে বাধ্য হয়ে চলে যান আসামের জলেশ্বরে। আসামের ধুবড়ি জেলার ভাসানচরে এক জনসভায় পূর্ব পাকিস্তানে কৃষকের ওপর অত্যাচার নির্যাতনেরর প্রতিবাদ জানান। ওই সমাবেশে সাধারণ কৃষকরা প্রথম থেকে ভাসানচরের মাওলানা পরে ভাসানী নাম উপাধি দেয়। তখন থেকেই তাঁর পরিচয় মাওলানা ভাসানী হিসেবে।
১৯৪৭ সালে ভারত বিভাগের পর তিনি আসাম থেকে পূর্ব বাংলায় চলে আসেন। এসেই প্রতিষ্ঠা করেন পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ। পরে সংগঠনের নাম হয় পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগ। ১৯৫২ সালে রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনে যুক্ত থাকার অপরাধে আবারও কারাবরণ করতে হয় তাঁকে।
১৯৫৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে তিনি শেরে বাংলা আবুল কাশেম ফজলুল হক ও হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর সঙ্গে যুক্তফ্রন্ট গঠন করেন। এ নির্বাচনে যুক্তফন্ট বিপুল ভোটে বিজয় লাভ করে।
১৯৫৭ সালে তিনি টাঙ্গাইল কাগমারিতে এক বিশাল আন্তর্জাতিক সম্মেলন আয়োজন করেন। যা ইতিহাসে ‘কাগমারি সম্মেলন’ নামে খ্যাত। সম্মেলনে দেশ-বিদেশের অনেক খ্যাতিমান মানুষ যোগদান করেন। সম্মেলনে পূর্ব পাকিস্তানের বঞ্চনার চিত্ত তুলে ধরা হয়।
১৯৭০ সালের নভেম্বর মাসে পল্টন ময়দানের জনসভায় তিনি বলেন পাকিস্তান সরকার ধর্ম ও জাতীয় সংহতির নামে পূর্ব পাকিস্তানের জনগনকে শোষণ করছে। ভাষণে ‘শোষণ’ শব্দটি বার বার উচ্চারণ করে জাতীকে সতর্ক করেছিলেন তিনি। ভাষণে তিনি এও বলেছিলেন পূর্ব পাকিস্তানের জনগনের উপর অত্যাচার নির্যাতন নীপিড়ন চলতে থাকলে পূর্ব পাকিস্তান একদিন স্বাধীন হয়ে যাবে।
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ মধ্যরাত থেকে পাকিস্তানী সৈন্যদের হত্যাযজ্ঞ শুরু পরবর্তীতে পাকিস্তানী সৈন্যরা মাওলনা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর টাঙ্গাইলের বাড়িঘর পুড়িয়ে দেয়। ভারত গিয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়া ভাসানী মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানী সেনাবাহিনী আত্মসমর্পনের পর তিনি বাংলাদেশে ফিরে আসেন। কিন্তু স্বাাধীন দেশের কোন পদমর্যাদা মোহ তাঁকে প্রভাবিত করতে পারেনি। তিনি সবসময় বঞ্চিত সাধারণ মানুষের পাশে ছিলেন।
মাওলানা ভাসানী নিজে প্রাতিষ্ঠানিক পড়ালেখায় বেশিদূর এগুতে না পারলেও শিক্ষা প্রসারে তিনি প্রতিষ্ঠা করেছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (সন্তোষ, টাঙ্গাইল), হাজী মুহম্মদ মহসিন কলেজ (মহীপুর) ও মাওলানা মোহাম্মদ আলী কলেজ (টাঙ্গাইল)।
মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী সজ্জনের মূর্ত প্রতীক। তাঁর উপমা কেবলই তিনি। তাঁর জীবনাচারণ ছিল সাদামাটা সহজ সরল অনাড়ম্বর।
এই মজলুম জননেতা ১৮৮০ সালে সিরাজগঞ্জের ধানগড়া গ্রামে এক দরিদ্র কৃষক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা-হাজী শরাফত আলী খান, মাতা-মজিরন বেগম।
১৯৭৬ সালে ১৭ নভেম্বর মজলুম জননেতা মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী ৯৬ বছর বয়সে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (সন্তোষ, টাঙ্গাইল) প্রাঙ্গনে তাঁকে দাফন করা হয়। হে মহান আল্লাহ, এই মজলুম জননেতাকে জান্নাতের উচ্চ মাকাম দান করুন।
প্লিজ, লেখাটি কপি করলে সূত্র উল্লেখ করুন। কেননা, একটি লেখা লিখতে লেখককে অনেক পরিশ্রম, সময় ও চিন্তার সমন্বয় করতে হয়।

লেখক : অধ্যক্ষ মুকতাদের আজাদ খান
অধ্যক্ষ, তাহের-মনজুর কলেজ,সীতাকুণ্ড, চট্টগ্রাম।





উপ সম্পাদকীয় এর আরও খবর

শান্তি চুক্তি পাহাড়ে বসবাসরত সকল জনগোষ্ঠীর অধিকার রক্ষায় সম্পূর্ণ ব্যর্থ শান্তি চুক্তি পাহাড়ে বসবাসরত সকল জনগোষ্ঠীর অধিকার রক্ষায় সম্পূর্ণ ব্যর্থ
পার্বত্য চুক্তির ২৬ বছরে পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগণ কি-কি বৈষম্যের স্বীকার তা নিয়ে একটি পর্যালোচনা পার্বত্য চুক্তির ২৬ বছরে পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগণ কি-কি বৈষম্যের স্বীকার তা নিয়ে একটি পর্যালোচনা
পার্বত্য অঞ্চলের ক্রীড়া উন্নয়নের নৈপথ্যের নায়ক নির্মল বড়ুয়া মিলন পার্বত্য অঞ্চলের ক্রীড়া উন্নয়নের নৈপথ্যের নায়ক নির্মল বড়ুয়া মিলন
সবকিছু কেড়ে নিয়েছে স্বৈরাচারী খুনি হাসিনার আওয়ামীলীগ সবকিছু কেড়ে নিয়েছে স্বৈরাচারী খুনি হাসিনার আওয়ামীলীগ
রাঙামাটিতে ঐক্যবদ্ধ বড়ুয়া সমাজ গড়ে তোলার সম্ভবনার পথ দেখা দিয়েছে রাঙামাটিতে ঐক্যবদ্ধ বড়ুয়া সমাজ গড়ে তোলার সম্ভবনার পথ দেখা দিয়েছে
আগামীতে  কারা দেশ চালাবে ? আগামীতে কারা দেশ চালাবে ?
মহান মে দিবস ও  শ্রমিকশ্রেণীর মুক্তির সংগ্রাম মহান মে দিবস ও শ্রমিকশ্রেণীর মুক্তির সংগ্রাম
সীমান্ত হত্যাকাণ্ড ও বাংলাদেশ - ভারত সম্পর্ক সীমান্ত হত্যাকাণ্ড ও বাংলাদেশ - ভারত সম্পর্ক
বিপন্ন সভ্যতায় বিপন্ন নারী বিপন্ন সভ্যতায় বিপন্ন নারী
গণতান্ত্রিক ও মানবিক সমঅধিকার  ছাড়া  নারীর মুক্তি নেই : বহ্নিশিখা জামালী গণতান্ত্রিক ও মানবিক সমঅধিকার ছাড়া নারীর মুক্তি নেই : বহ্নিশিখা জামালী

আর্কাইভ