শনিবার ● ১৫ আগস্ট ২০২৬
প্রথম পাতা » আন্তর্জাতিক » ভারতে নিহত বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জয়চন্দ্র সরকার : ত্রিভুজ প্রেমের বলি
ভারতে নিহত বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জয়চন্দ্র সরকার : ত্রিভুজ প্রেমের বলি
রুকুনুজ্জামান, পার্বতীপুর প্রতিনিধি :: ভারতের পশ্চিমবঙ্গে রহস্যজনকভাবে নিহত বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জয়চন্দ্র সরকারের (২৩) শেষকৃত্য শুক্রবার সকালে দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার নিজ গ্রামে সম্পন্ন হয়েছে। তবে শেষকৃত্য সম্পন্ন হলেও তার মৃত্যুর রহস্য এখনো কাটেনি। পরিবারের অভিযোগ, এটি আত্মহত্যা নয়; বরং একটি ত্রিভুজ প্রেমের সম্পর্ককে কেন্দ্র করে পরিকল্পিতভাবে জয়চন্দ্রকে হত্যা করা হয়েছে।
নিহতের পরিবার ও স্বজনদের দাবি, জয়চন্দ্রের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের বারাসাতে ব্রেইনওয়্যার ইউনিভার্সিটিতে অধ্যয়নরত এক নেপালি তরুণীর ঘনিষ্ঠ প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই তরুণীর সঙ্গে এর আগে একই বিশ্ববিদ্যালয়ের অপর এক শিক্ষার্থীর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। পরবর্তীতে জয়চন্দ্রের সঙ্গে তার সম্পর্ক তৈরি হলে বিষয়টি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ ও টানাপোড়েনের সৃষ্টি হয়। আর এই বিরোধের জেরেই জয়চন্দ্রকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়ে থাকতে পারে বলে পরিবারের সন্দেহ।
পরিবারের অভিযোগ, গত ৬ আগস্ট বৃহস্পতিবার জয়চন্দ্রকে প্রথমে বিষ প্রয়োগ করে হত্যার চেষ্টা করা হয়। এতে তার মৃত্যু না হলে পরে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। এরপর ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে তার গলায় ফাঁস লাগিয়ে মরদেহ ঝুলিয়ে রাখা হয়—এমনটাই দাবি নিহতের পরিবারের।
পরিবারের পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়েছে, ভারতের ময়নাতদন্ত-সংক্রান্ত প্রতিবেদনে বিষ প্রয়োগসহ মৃত্যুর আগে তার শরীরে বিভিন্ন ধরনের আঘাত বা আলামতের বিষয় উঠে এসেছে। তবে এসব তথ্যের পূর্ণাঙ্গ সত্যতা ও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণে নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্বজনরা।
জয়চন্দ্রের পরিবারের হাতে থাকা তার প্রেমিকার সঙ্গে তোলা একাধিক ছবি, বিভিন্ন তথ্য ও পারিবারিকভাবে সংগৃহীত নথিপত্রের ভিত্তিতে তারা ত্রিভুজ প্রেমের বিষয়টি সামনে এনেছেন। পরিবারের দাবি, এসব তথ্য তদন্তকারীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
নিহতের বাবা রঞ্জিত চন্দ্র সরকার বলেন, ছেলে ছিল পরিবারের বড় সন্তান। দিনাজপুরের হলিল্যান্ড কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করার পর উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে ২০২৪ সালে ভারতে যায় জয়চন্দ্র। প্রথমে দিল্লির সারদা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে ভর্তি হয়। পরে ২০২৫ সালে পশ্চিমবঙ্গের বারাসাতে ব্রেইনওয়্যার ইউনিভার্সিটিতে বিটেক ইন কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগে ভর্তি হয়ে পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছিল।
বাবা রঞ্জিত চন্দ্র সরকারের ভাষ্য, বিদেশের মাটিতে পড়াশোনা করে ছেলে একদিন প্রতিষ্ঠিত হবে—এমন স্বপ্নই দেখেছিলেন তারা। কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণের আগেই মাত্র ২৩ বছর বয়সে জয়চন্দ্রের রহস্যজনক মৃত্যু পুরো পরিবারকে শোকের সাগরে ভাসিয়েছে।
তিনি বলেন, “আমরা কোনোভাবেই বিশ্বাস করতে পারছি না যে আমাদের ছেলে আত্মহত্যা করেছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন করতে হলে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। আমরা চাই, তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসুক এবং যারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তাদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হোক।”
জয়চন্দ্রের মৃত্যুর ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে যেসব অভিযোগ করা হয়েছে, সেগুলোর স্বাধীনভাবে যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট ভারতীয় তদন্তকারী সংস্থার বক্তব্য জানা জরুরি। একই সঙ্গে ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন, ঘটনাস্থলের আলামত, ফরেনসিক পরীক্ষার ফলাফল, মোবাইল ফোন ও যোগাযোগের তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদের ফলাফল সামনে এলে মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন সহজ হতে পারে।
পরিবারের অভিযোগ সত্য হলে এটি নিছক আত্মহত্যা নয়, বরং পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা হতে পারে। আবার তদন্তে ভিন্ন কোনো কারণও উঠে আসতে পারে। তাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে সব তথ্য-প্রমাণ নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
একজন সম্ভাবনাময় তরুণ শিক্ষার্থীর বিদেশের মাটিতে এমন রহস্যজনক মৃত্যুতে পরিবার, স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে গভীর শোক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। জয়চন্দ্রের মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন, দায়ীদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনা এবং পরিবারের কাছে সত্য তুলে ধরার দাবি জানিয়েছেন তার স্বজনরা।
এখন পরিবারের একটাই প্রশ্ন-জয়চন্দ্র কি সত্যিই আত্মহত্যা করেছিলেন, নাকি ত্রিভুজ প্রেমের জটিল সম্পর্কের জেরে তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছিল? এই প্রশ্নের উত্তর মিলবে নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তেই।
হত্যাকাণ্ডের ৯ দিন পর ভারত থেকে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মরদেহ দেশে, সৎকার সম্পন্ন
পার্বতীপুর :: রহস্যজনক মৃত্যুর ৯ দিন পর ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকে বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জয়চন্দ্র সরকার (২৩)-এর অর্ধগলিত মরদেহ অবশেষে নিজ গ্রাম দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলায় পৌঁছেছে। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মরদেহটি তার গ্রামের বাড়িতে আনা হয়। পরে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান শেষে স্থানীয় শ্মশানঘাটে তার শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হয়।
জানা গেছে, বাংলাদেশ ও ভারতের স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে কয়েক দফা চিঠিপত্র বিনিময়ের পর দুই দেশের সরকারি ব্যবস্থাপনায় মরদেহটি দেশে আনার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। ভারতের পেট্রাপোল স্থলবন্দর ও বাংলাদেশের বেনাপোল বন্দর হয়ে ফ্রিজিং অ্যাম্বুলেন্সে মরদেহটি পার্বতীপুরে পৌঁছানো হয়।
মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছানোর খবর ছড়িয়ে পড়লে শোকাহত স্বজনদের পাশাপাশি শত শত গ্রামবাসী সেখানে ভিড় করেন। তবে মরদেহের অবস্থা অত্যন্ত নাজুক হওয়ায় প্রায় ৩০ মিনিটের মধ্যে ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে দ্রুত স্ট্রেচারে করে স্থানীয় শ্মশানঘাটে নেওয়া হয়। এর মধ্য দিয়ে জয়চন্দ্র সরকারের মৃত্যুকে ঘিরে দীর্ঘ প্রতীক্ষা ও অনিশ্চয়তার অবসান ঘটে।
নিহত জয়চন্দ্র সরকার দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার মন্মথপুর গ্রামের রঞ্জিত চন্দ্র সরকারের বড় ছেলে। তিনি ২০২৪ সালে স্টুডেন্ট ভিসায় ভারতে গিয়ে দিল্লির সারদা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে ভর্তি হন। পরে বিষয়টি পছন্দ না হওয়ায় ২০২৫ সালে কলকাতার উত্তর চব্বিশ পরগনার বারাসাতে অবস্থিত ব্রেনওয়্যার ইউনিভার্সিটিতে বি.টেক (সিএসই) বিভাগে ভর্তি হন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ৬ আগস্ট রাত প্রায় ৮টার দিকে এক অজ্ঞাত নারী ফোনে বাংলাদেশে জয়চন্দ্রের পরিবারকে জানান, তিনি গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। তবে পরিবারের দাবি, এটি আত্মহত্যা নয়; বরং পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে নিহতের মামা মানিক সরকার ভারতে গিয়ে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করে সরকারি প্রক্রিয়ায় মরদেহ দেশে আনার ব্যবস্থা করেন। পরিবারের সদস্যরা জানান, ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনে তারা বাংলাদেশ ও ভারতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করছেন।




ইরানের মত একটি স্বাধীন দেশে মার্কিন- ইজরায়েলী ভয়ংকর সামরিক অভিযান আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধের সামিল
গাজা সিটি দখল করে নেয়ার ইসরায়েলী সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক সকল বিধিবিধান আরও একবার পদদলিত করবে
রোহিঙ্গাদের মায়ানমারে নিরাপদ প্রত্যাবাসনের ব্যাপারে চীনকে আরও সক্রিয় ভূমিকা গ্রহণের অনুরোধ
সফল পর্বতারোহী প্রকৌশলী কাওছার রূপক-কে জাতীয় পতাকা হস্তান্তর
যুদ্ধবাজ নেতানিয়াহুকে গেফতার করে আন্তর্জাতিক আদালতে সোপর্দ করুন
গাজার প্রতি বৈশ্বিক সংহতির অংশ হোন - ‘নো ওয়ার্ক, নো স্কুল কর্মসূচি সফল করুন : জুঁই চাকমা
কাটমন্ডুতে নেপালের প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলির সাথে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হকের বৈঠক
সিপিএম নেতা সীতারাম ইয়েচুরীর মৃত্যুতে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির গভীর শোক
শেখ হাসিনা সরকারের পতনকে মোদি সরকার নিজেদের পরাজয় হিসাবেই দেখছে 